‘যেভাবে আমার সাদা চুলগুলো কালো হলো হেয়ার কালার ছাড়া’- পড়ুন বিস্তারিত

বয়সের সঙ্গে মাথার চুল পাকতেই পারে। অনেকেরই অবশ্য জেনেটিস কারণে বহুদিন চুল পাকে না। কিন্তু কম বয়সেই যখন চুলে ধূসরভাব দেখা যায়, তখন চিন্তার বিষয়। যেকোনো মানুষ এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাইবেন। এখানে একজনের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হলো। বয়সের আগেই চুল পাকার অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুলের রংয়ের ওপর নির্ভর না করে খাবারে ভরসা রাখেন। নিজের জীবনে এর প্রয়োগ ঘটিয়ে সফলও হয়েছেন তিনি। তার এসব পদ্ধতিকে বিজ্ঞানসম্মত বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখানে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে চুলের রং ছাড়াই পাকা চুলকে আবারও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিলেন তিনি। তার ভাষাতেই বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।

তিনি লিখেছেন, একদিন কলেজে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছি। চুল আঁচড়াতে গিয়ে একটি পাকা চুলের দেখা পেলাম। এটাকে পাত্তা দেইনি। কিন্তু ওটা সঙ্গী খুঁজে পেলো যেন। মাথার মাঝখানে একগোছা চুল পাকতে শুরু করলো। সেলুনে যাওয়ার পর তারা সবাই আমাকে চুল রং করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু এই বয়সে চুলে রং করার বিষয়টি কেন যেন লাগছিল। চুলে কেন এখনই রাসায়নিক পদার্থ লাগাবো? কিন্তু তাদের মধ্যে একজন আমাকে অন্য পরামর্শ দিলেন। খাদ্য উপাদানের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে বললেন। তিনি আয়রন এবং বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খেতে বললেন ৬ মাস ধরে। সেই সঙ্গে চুলে লবণ ছাড়া বাটারমিল্ক লাগাতে বললেন। এগুলো চুলে গোড়া থেকে রংকে কালো করবে বলে জানালেন।

কবিরাজ:মি:তপন দেব, এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের যাবতীয় গোপন রোগ সহ,যে কোন জটিল ও কঠিন রোগের নিচর্য়তা সহকারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। যোগাযোগ: বাসাবো, ঢাকা। মোবাইল: ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

প্রথম মাস : লাঞ্চের পর আয়রন এবং বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করলাম। সবজিও খেতে শুরু করলাম। পালং শাক এবং মেথি ছিল পছন্দের তালিকায়। অনলাইনে বিভিন্ন গবেষণাপত্র পড়ে জানতে পারলাম যে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে পাকা চুল চলে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্যে সকালে হাঁটাহাঁটি এবং ইয়োগা শুরু করলাম।

দ্বিতীয় মাস : সাপ্লিমেন্টগুলো চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু একটা চুলও তো আগের রং ফিরে পেলো না। দেখলাম আমলকির রস চুলকে বেশ মসৃণ করে। চকচকেও হয়। এটাই শুরু করলাম পুরোদমে। আমলার রস চুলে মেখে রাখতাম ৪৫ মিনিট। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুলে চুল অন্যরকম হয়ে যেতো। কিন্তু এতে পাকা চুল গেলো না।

তৃতীয় মাস : মনটা খারাপ হতে থাকলো। মনে হচ্ছিল হেয়াল কালার দেওয়াই ভালো। কিন্তু তবুও আরো সময় ধৈর্য ধরার সিদ্ধান্ত নিলাম।

চতুর্থ মাস : আমার চুলগুলো বাড়তে থাকলো। অদ্ভুত বিষয় হলো, নতুন অংশ কালো হয়েই বাড়তে থাকলো। পুরোপুরি কালো হয়নি। কিন্তু ৪০ শতাংশ কালো। এসবই সফলতার দিকে যাচ্ছে দেখে খুশি লাগলো।

পঞ্চম মাস : অভ্যাসগুলোর চর্চা চালিয়ে যেতে থাকলাম। সবুজ সবজি খেতাম নিয়মিত। ফল খেতাম। ব্যায়ামও করতাম প্রতিদিন। ছয় মাসের কোর্স শেষ করার চিন্তা করলাম।

ষষ্ঠ মাস : নতুন চুলের ৬০ শতাংশ কালো দেখতে পেলাম। আমার কি যে ভালো লাগলো তা বলে বোঝাতে পারবো না। আমি সেই সেলুনে গিয়ে পরামর্শদাতাকে ধন্যবাদ জানালাম। এরপর আমি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করলাম। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেই থাকলাম। আর হ্যাঁ, চুলে মাসে দুইবার আমলকির রস লাগাতে থাকলাম।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply