জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবসে ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত

‘বাল্যবিবাহকে জোর না’ এই প্রতিপাদ্যে দেশে প্রথমবারের মত জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালিত হয়। ক্যান্সারবিরোধী মোর্চা ‘মার্চ ফর মাদার’ ও আন্তর্জাতিক রোটারি জেলা ৩২৮১, বাংলাদেশ যৌথভাবে এখন থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালিত করবে।

এ উপলক্ষে সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ‘জননীর জন্য পদযাত্রা’ বের হয়। ফার্মগেট পর্যন্ত এই পদযাত্রা থেকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার নিয়ে সহজ বাংলায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ বর্ণনা করেন মার্চ ফর মাদার-এর প্রধান সমন্বয়কারী ও জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

তিনি বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার দেশের নারীদের দ্বিতীয় প্রধান ক্যান্সার হলেও এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। এই রোগের প্রধান ঝুঁকি বা রিস্ক ফ্যাক্টর বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে সন্তানধারণ, বেশি সন্তান, ঘন ঘন সন্তান, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, তামাক ও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণ। দেশের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ‘বাল্যবিবাহকে জোর না’ প্রতিপাদ্য বেছে নেয়া হয়েছে এ বছরের থিম হিসেবে।

রোটারি ইটারন্যাশন্যাল জেলা ৩২৮১ এর গভর্নর এফ এইচ আরিফ বলেন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ক্যান্সারবিরোধী মোর্চার এই সামাজিক আন্দোলনে রোটারি সব সময় পাশে থাকবে।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, সরকার জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে স্কনিং কর্মসূচি বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে চালু করা হয়েছে। জননীর জন্য পদযাত্রা এই সেবা গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি এই আন্দোলনে বিএসএমএমইউ-এর পক্ষ থেকে স্ব রকমের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

পদযাত্রার উদ্বোধন করে ক্যান্সার সারভাইভার কবি কাজী রোজী এমপি বলেন, জননীর জন্য পদযাত্রা বাংলাদেশে ক্যান্সার প্রতিরোধ কার্যক্রমে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএসএমএমইউর গাইনি অনকোলজির প্রধান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মশিউদ্দিন শাকের, সারভাইভারদের সংগঠন অপরাজিতা’র চেয়ারপারসন নিলুফার তাসনিম, সিসিপিআর-এর নির্বাহী পরিচালক মোসাররত জাহান সৌরভ, ওয়াইডাব্লিওসিএ’র প্রতিনিধি মেরি মার্গারেট রোজারিও, ব্লু স্কাই চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের ডা. রেজিনা খাতুন, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের ডা. মাসুমুল হক, কমিউনিটি অনকোলজি ফাউন্ডেশনের নাসরিন জাহান, ক্যাপ-এর মুসা করিম, জাস্টিসভিশনের অ্যাডভোকেট সয়দা ফেরদোউস, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা গোল্ডেন সিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল হক।

ঢাকার মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

২৬ ও ২৭ জানুয়ারি যথাক্রমে রাজশাহী ও খুলনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জননীর জন্য পদযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পুরো জানুয়ারি জুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর দেশে ১২ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, সাড়ে ৬ হাজার মৃত্যুবরণ করেন। একটু সচেতন হলে, বাল্যবিবাহসহ কিছু ঝুকিপূর্ণ বিষয় ও আচরণ বর্জন করলে ও এইচপিভি ভ্যাক্সিনসহ কিছু ভালো অভ্যাস গ্রহণ করলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আবার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে নিরাময় সম্ভব, তাই প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা।

Leave a Reply