দিনে ২ কাপ গরম জল, আপনার শরীরে কাজ করবে ম্যাজিকের মত!

জলের অপর নাম জীবন। সুস্বাস্থ্যের জন্য জল সবসময়ই ভীষণভাব প্রয়োজনীয়। কিডনি ভালো রাখতে, কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, শরীরে শক্তির জন্য জল খাওয়া ভীষণভাবে দরকারি। গরম জল এইসবের সঙ্গেই আরও বেশকিছু উপকার করে আপনার শরীরে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঘরোয়া টোটকা হিসেবে কাজ দেয় গরম জল।

ভালো পরিপাক
পরিপাক হরমোনগুলিকে উদ্দীপিত করে গরম জল। ফলে পরিপাকের হার বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে ও খাদ্যরস শোষণে সাহায্য করে গরম জল। এই কারণে রেস্তরাঁয় খাবার পর চা-কফি অফার করা হয়।

ডিটক্স
গরম জল ঘাম ও মূত্রের মধ্যে দিয়ে শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। গরম জল শরীরে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘাম বেশি হয়। শরীর ডিটক্স হয়।

রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
গরম জল রক্তে ফ্যাট জমতে দেয় না। রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। পেশীকে শিথিল করে। ফলে রক্ত সহজেই সংবাহিত হতে পারে। গরম জলে স্নানও একই কারণে উপকারী। ধমনী ও শিরাকে প্রসারিত করে গরম জলে স্নান।

যন্ত্রণার উপশম ঘটায়
মাথা যন্ত্রণা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডে খিঁচুনিতে আরাম দেয় গরম জল।

ওজন ঝরাতে সাহায্য করে
শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে গরম জল। গরম জল খিদে কমায়। ফলে ‘ক্যালোরি ইনটেক’ কম হয়। যে কারণে ওজন বৃদ্ধি হয় না। অনেক ডায়েট খাবারের থেকেও ভালো কাজ দেয় গরম জল।

বার্ধক্য আসতে দেয় না
যেকোনও অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্টের চেয়ে অনেক বেশি কাজ দেয় গরম জল। ঘরম জল যেহেতু শরীরকে ডিটক্স করে, ফলে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না। বলিরেখা আসতে দেয় না।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
শরীর শুষ্ক হয়ে গেলেই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। কারণ অন্ত্রের মধ্যে দিয়ে তখন আর খাবার নীচের দিকে নামতে পারে না। গরম জল শরীরে জলের সমতা ফেরায়। খাবারকে তাড়াতাড়ি পরিপাক করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

ত্বক পরিষ্কার করে
গরম জল খেলে ত্বকের রোম কূপগুলি খুলে যায়। ফলে টক্সিন, শরীর দূষিত পদার্থ, শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে গরম জল হল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। ফলে ত্বককে শুষ্ক হতে দেয় না। পাশাপাশি শরীর থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে দূর করে। ফলে ব্রণ, অ্যাকনের মত ত্বকের সংক্রমণ কম হয়।

[rpi]

চুলের সুস্বাস্থ্যে উপযোগী
গরম জল চুলের গোড়ায় স্নায়ুকে সচল রাখে। রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। ফলে চুল নরম থাকে ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। চুল তাড়াতাড়ি বড় হয়। প্রতি চুল কোষে এক চতুর্থাংশ জল থাকে। গরম জল চুলে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে।

খুসকি দুর করে
গরম জল খুসকি দূর করে। স্কাল্পকে হাইড্রেটেড রাখে গরম জল অর্থাত্ করোটির কোষকে শুষ্ক হতে দেয় না। ফলে খুসকি তৈরি হয় না।

সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়
জল একটু গরম করে খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। কারণ জলের মধ্যে থাকা ক্ষতিকারণ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব বেশি তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে না।

পরিপাকের হার বাড়ায়
দু’কাপ গরম জল খেলে পরিপাকের হার বা মেটাবলিক রেট বেড়ে যায় ৩০ শতাংশ। গরম জল খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যা পরিপাককে দ্রুত করে।

গলা খুসখুসে আরামদায়ক
ঠান্ডা লেগে গলা খুসখুস, গলায় ব্যথায় একদম ঘরোয়া ওষুধ হল গরম জল। গরম জল খেলে মিউকাস পর্দা ও শ্বাসনালীর সংক্রমণ কমে যায়। সর্দি-কাশিতে দারুণ আরাম দেয় গরম জল। অনেকে সর্দি কমাতে ভেপার নিয়ে থাকেন।

Read also:

ডিম আমিষ না নিরামিষ? এবার জানিয়েই দিলেন বিজ্ঞানীরা
ডিম আগে নাকি মুরগি আগে?’ এই জটিল ধাঁধার সমাধান যেমন আজ পর্যন্ত হয়নি, তেমনই ডিম আমিষ না নিরামিষ? এই বিতর্কের সমাধান অধরা। অবশেষে বিজ্ঞানীরা জানিয়েই দিলেন, খাদ্যতালিকায় ডিমের আসল অবস্থান।

রোজের খাবারের তালিকায় ডিম থাকে না এমন মানুষ মেলা ভার। তবে আমিষ ভেবে অনেকেই ডিম থেকে দূরে থাকেন। কারণ, ডিম মুরগির শরীর থেকে তৈরি হয়। আর মুরগি জীবন্ত জিনিস। এই যুক্তিতেই একাংশের মত ডিম আমিষ। তবে পালটা যুক্তিও রয়েছে।

তবে বিস্তর গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ডিম মোটেও আমিষ নয়, বরং নিরামিষ। তাঁদের যুক্তি, ডিমের ৩টি অংশ। ডিমের খোসা, কুসুম এবং সাদা অংশ। গবেষণা বলছে ডিমের সাদা অংশ শুধুমাত্র প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আর কুসুমে রয়েছে প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। বাজারে খাওয়ার জন্য যে ডিম বিক্রি হয় তা অনিষিক্ত। তার মধ্যে কোনও ভ্রুণ থাকে না। অর্থাত্ এই ডিম খেলে জীবহত্যার দায়ে দুষ্ট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

About Pronoydeb

Leave a Reply